পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৯০ বার পঠিত হয়েছে

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন আইনে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায়ও যুক্ত করা হয়েছে নতুন নতুন বিধান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সিনিয়র সচিব বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন আন্তর্জাতিকভাবে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। জাতিসংঘের কনভেনশন ও সংশ্লিষ্ট প্রোটোকলের আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে অপরাধ দমনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষাও নিশ্চিত হয়।

তিনি জানান, নতুন আইনে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, ভুয়া চাকরির প্রলোভন, বিদেশ পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধগুলোকে সরাসরি মানব পাচারের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকারীদের সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব স্থগিত এবং প্রয়োজন হলে আসামির অনুপস্থিতিতেও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল না। নতুন আইনে এই দুই অপরাধকে আলাদা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনের বিভিন্ন ধারা পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন বিধানে বলা হয়েছে, পাচারকারীদের সহায়তা করা, নথিপত্র গোপন রাখা কিংবা নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া ভুয়া ভিসা বা পাসপোর্ট তৈরি, অনলাইনে চাকরির মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার এবং বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার ক্ষেত্রেও কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। এখন তারা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় পাচারকারীদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারবেন। বিদেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ সহজ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী বা সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো বা আপস করতে বাধ্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পাচারের শিকার হয়ে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িয়ে পড়লেও তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমের সচেতনতামূলক ভূমিকার মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার প্রবণতা কমবে এবং মানব পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

প্রকাশ: ০৭:৪০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন আইনে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায়ও যুক্ত করা হয়েছে নতুন নতুন বিধান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সিনিয়র সচিব বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন আন্তর্জাতিকভাবে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। জাতিসংঘের কনভেনশন ও সংশ্লিষ্ট প্রোটোকলের আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে অপরাধ দমনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষাও নিশ্চিত হয়।

তিনি জানান, নতুন আইনে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, ভুয়া চাকরির প্রলোভন, বিদেশ পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধগুলোকে সরাসরি মানব পাচারের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকারীদের সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব স্থগিত এবং প্রয়োজন হলে আসামির অনুপস্থিতিতেও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল না। নতুন আইনে এই দুই অপরাধকে আলাদা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনের বিভিন্ন ধারা পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন বিধানে বলা হয়েছে, পাচারকারীদের সহায়তা করা, নথিপত্র গোপন রাখা কিংবা নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া ভুয়া ভিসা বা পাসপোর্ট তৈরি, অনলাইনে চাকরির মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার এবং বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার ক্ষেত্রেও কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। এখন তারা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় পাচারকারীদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারবেন। বিদেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ সহজ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী বা সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো বা আপস করতে বাধ্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পাচারের শিকার হয়ে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িয়ে পড়লেও তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমের সচেতনতামূলক ভূমিকার মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার প্রবণতা কমবে এবং মানব পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।