প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ, ব্যক্তি রাষ্ট্রপতিকে নয়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭৪ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পদ ও ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য টেনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি জানান, সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে রাষ্ট্রপতির চেয়ার তথা প্রতিষ্ঠানকে তিনি যথাযথ সম্মান করেন, তবে ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে তিনি অনিচ্ছুক। এ মন্তব্য তিনি প্রকাশ করেন বৃহস্পতিবারের সংসদ অধিবেশনে।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ হারানোদের স্মরণ করেন। বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতাই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে দিয়েছে, যার ফলেই জনপ্রতিনিধিরা সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আশরাফ উদ্দিন নিজান দাবি করেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ছিল না; বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা বিস্তৃত হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রিকশাচালক থেকে শুরু করে শ্রমজীবী নাগরিকরা সমানভাবে এতে যুক্ত ছিলেন, যা জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।

বিগত সংসদের কার্যক্রমের সমালোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, তখনকার নেতৃত্বে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক প্রচার চালানো হতো। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে কীভাবে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতো বলেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘জামায়াত-শিবির’ বা ‘জামায়াত-বিএনপি’ ট্যাগ ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণের প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান সংসদের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারস্পরিক দোষারোপ ও তর্ক-বিতর্কের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তার মতে, সংসদকে এমন একটি কার্যকর ও গণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে একে অপরকে আঘাত করার প্রবণতা থাকলেও সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্য-মিথ্যা বিচার করতে সক্ষম। তাই জনগণের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ, ব্যক্তি রাষ্ট্রপতিকে নয়

প্রকাশ: ০৯:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পদ ও ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য টেনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি জানান, সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে রাষ্ট্রপতির চেয়ার তথা প্রতিষ্ঠানকে তিনি যথাযথ সম্মান করেন, তবে ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে তিনি অনিচ্ছুক। এ মন্তব্য তিনি প্রকাশ করেন বৃহস্পতিবারের সংসদ অধিবেশনে।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ হারানোদের স্মরণ করেন। বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতাই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে দিয়েছে, যার ফলেই জনপ্রতিনিধিরা সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আশরাফ উদ্দিন নিজান দাবি করেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ছিল না; বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা বিস্তৃত হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রিকশাচালক থেকে শুরু করে শ্রমজীবী নাগরিকরা সমানভাবে এতে যুক্ত ছিলেন, যা জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।

বিগত সংসদের কার্যক্রমের সমালোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, তখনকার নেতৃত্বে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক প্রচার চালানো হতো। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে কীভাবে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতো বলেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘জামায়াত-শিবির’ বা ‘জামায়াত-বিএনপি’ ট্যাগ ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণের প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান সংসদের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারস্পরিক দোষারোপ ও তর্ক-বিতর্কের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তার মতে, সংসদকে এমন একটি কার্যকর ও গণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে একে অপরকে আঘাত করার প্রবণতা থাকলেও সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্য-মিথ্যা বিচার করতে সক্ষম। তাই জনগণের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।