দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

ফখরুল: সংসদেই হবে সব সংস্কার

রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান সংস্কার বিতর্ক, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সংগঠনগত শৃঙ্খলা এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রস্তাবিত সনদ ও সংস্কার আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অনেক জায়গায় মতামত দিয়েছে। তবে সব প্রস্তাবের সঙ্গে দল একমত হয়নি বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রশ্নে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্রের বড় ধরনের পরিবর্তন সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত, বাইরে কোনো কাঠামো তৈরি করে নয়।

সংস্কার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি অতীতের দিকে ইঙ্গিত করেন। তার বক্তব্যঅনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রথম শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সময়েই। তাই বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সময়কে তিনি “নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট না করেঅর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, পূর্ববর্তী শাসনামলে বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

শিক্ষা খাত নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় প্রভাব কমিয়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ছাত্ররাজনীতিকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দলীয় সংগঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ইতোমধ্যে বহু অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, তাইনতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে সংগঠন তৈরির প্রবণতা ঠেকাতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণামূলক কাজ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, ইতিহাস ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তদবির নির্ভরতা বেড়ে যাওয়াকে তিনি একটি খারাপ সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।