বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু

রাজনীতি

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন মেয়ে তাসনিম সিনহা। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ মুন্সীগঞ্জ জেলায় তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা খাতেও পরিচিত মুখ ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একপর্যায়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হন। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরে তার পরিবর্তে দলীয় প্রার্থী করা হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম আজাদকে।

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে কলকাতায়। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ব্যাংকিং খাতে কাজ করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে পেশাজীবন শুরু হলেও পরে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দলটির হয়ে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন।

মিজানুর রহমান সিনহার গ্রামের বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। রাজনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জের মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।