সংগঠন শক্তিশালী করছে এনসিপি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত হয়েছে

জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বনির্ভর এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি এখন কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিতে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় আনুষ্ঠানিক যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দলের সাবেক নেতা-কর্মী এবং তরুণ সংগঠকরা এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।

দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নতুনদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। সেখানে শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা মনে করছেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে মধ্যপন্থি ও সংস্কারমুখী একটি শক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চাইছে দলটি।

দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের মধ্যে এনসিপির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে দাবি করছেন তারা। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এছাড়া যুব, ছাত্র, নারী ও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি দলিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী নাগরিক ও প্রবাসীদের নিয়েও আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতা ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের যোগদানের কারণে এনসিপি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলটির নেতারা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক বিস্তার ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রচেষ্টা সফল হলে এনসিপি আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে দলটিকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠন শক্তিশালী করছে এনসিপি

প্রকাশ: ১০:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বনির্ভর এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি এখন কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিতে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় আনুষ্ঠানিক যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দলের সাবেক নেতা-কর্মী এবং তরুণ সংগঠকরা এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।

দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নতুনদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। সেখানে শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা মনে করছেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে মধ্যপন্থি ও সংস্কারমুখী একটি শক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চাইছে দলটি।

দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের মধ্যে এনসিপির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে দাবি করছেন তারা। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এছাড়া যুব, ছাত্র, নারী ও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি দলিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী নাগরিক ও প্রবাসীদের নিয়েও আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতা ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের যোগদানের কারণে এনসিপি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলটির নেতারা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক বিস্তার ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রচেষ্টা সফল হলে এনসিপি আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে দলটিকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।