জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল-২০২৬ পাস হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তা বিরোধিতা ছাড়াই পাস হয়। একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আরও চারটি অধ্যাদেশও বিল আকারে সংসদে অনুমোদন পায়।
এর আগে সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। অধিবেশন শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুক্রবারও সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আইন সংশোধনের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সেটিকে স্থায়ী আইনি কাঠামো দিতে বর্তমান সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হয়।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংসদে অনুমোদিত না হলে তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বিশেষ কমিটির সুপারিশে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে সংসদে তোলা হয়। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বেশিরভাগই অপরিবর্তিত রেখে আইন করার সুপারিশ করা হলেও কিছু সংশোধন ও কিছু বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের হাতে নির্বাহী আদেশে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এর আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়, যা এখন পর্যন্ত বহাল থাকছে।
বর্তমান আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি-যেমন মিছিল, সমাবেশ, প্রচারণা বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করতে পারবে না। এমনকি তাদের আর্থিক লেনদেন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমও সীমাবদ্ধ থাকবে।
নতুন সংশোধনীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধানও নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্টদের চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে সরকারি সিদ্ধান্তে উল্লেখ রয়েছে।
















Leave a Reply