সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ১১ দল

রাজনীতি

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক সেমিনার থেকে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। তারা বলেছেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে অস্বীকার করা হলে দেশে বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করছে।

রোববার সন্ধ্যায় নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে “গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, জনগণ ইতোমধ্যে সরকারপক্ষের ব্যাখ্যা ও আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। এখনো দাবি মেনে না নিলে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বক্তারা বলেন, সংস্কার কমিশন ও জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সময় বিএনপি কোনো আপত্তি তোলেনি। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলটির অবস্থান পুরোপুরি বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, সরকার যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে এবং এর ফলেই রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, সংসদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের মতামতই সর্বোচ্চ শক্তি। সংবিধান জনগণকে সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ হচ্ছে সরকার, সংসদ ও বিচার বিভাগ। এই তিন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের ভিত্তি হলো সংবিধান, আর সংবিধানের শক্তির উৎস জনগণ। তাই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের ফলাফল ও জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসা উচিত। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।