সীমান্ত লংমার্চের হুঁশিয়ারি নাহিদের

রাজনীতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম রক্তাক্ত সীমান্তে পরিণত হয়েছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন করে ‘সীমান্ত লংমার্চ’-এর ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ঐক্য: নতুন বাংলাদেশের শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে বহু বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করছে, যার ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ফারাক্কা দিবসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মওলানা ভাসানীর আন্দোলনের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ এমন কোনো চুক্তি দেখতে চায় না যেখানে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত ঘিরে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বহু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি কয়েকটি হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাম চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রস্তাবও দেন।

বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, জনগণের সঙ্গে করা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কর্মসংস্থান, গণভোটের প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাববলয়ে পরিচালিত হতে পারে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও সংসদে আলোচনা ও জনসম্মুখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক দক্ষতার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, শুধু প্রচার কৌশল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করবে সরকারের কার্যক্রম ও পারফরম্যান্সের ওপর।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ অন্য নেতারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।