হামে আক্রান্ত শিশু নূর নাহারের পাশে সহায়তার হাত
রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী শিশু নূর নাহারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুটির শারীরিক অবস্থা এবং পরিবারের মানবিক সংকটের খবর প্রকাশের পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সহায়তা ও সার্বিক তদারকির নির্দেশনা দেন।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুরভি’র অন্যতম সংগঠক এবং জেডআরএফের বোর্ড অব ডিরেক্টরস কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। পরে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-কে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব দেন।
তার নির্দেশনার পর বুধবার (১৩ মে) সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে নূর নাহারের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি শিশুটির মা স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ এবং মশিউর রহমান মহানসহ আরও অনেকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা স্বর্ণা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে একাই সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ার পর নূর নাহারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অর্থাভাবে একপর্যায়ে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে পরিবারের জন্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সী একটি শিশুর স্বাভাবিক ওজন সাধারণত ৭ থেকে ৯ কেজির মধ্যে থাকার কথা। তবে নূর নাহারের বর্তমান ওজন মাত্র ৩ কেজি বলে জানা গেছে, যা তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর দিকটি তুলে ধরে।
অর্থ সংকটের কারণে শিশুটির মা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার করে চিকিৎসার ব্যয় চালানোর চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে পরিবারটিতে।
