বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের একচেটিয়া আধিপত্যের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ব্যাটে–বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে শিরোপা জিতেছিল দলটি। বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড রয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের, আর ঢাকা দল জিতেছে তিনবার।
রাজশাহীর ঝড়ো শুরু, বড় সংগ্রহ
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী হাসান। তবে তার সেই সিদ্ধান্ত শুরুতেই ভুল প্রমাণ করে রাজশাহীর ওপেনাররা। তানজিদ তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং আর সাহিবজাদা ফারহানের নিয়ন্ত্রিত খেলায় রাজশাহী পায় দুর্দান্ত সূচনা। প্রথম উইকেটেই ৮৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দলটি। ৩০ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফারহান।
এরপর তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন কেইন উইলিয়ামসন। দুজনে মিলে গড়েন ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরীফুল ইসলামের বলে আউট হলেও তানজিদ থামেননি। ছক্কা–চারের ফুলঝুরি ছুটিয়ে মাত্র ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে রাজশাহী সংগ্রহ করে ১৭৪ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় ব্যর্থ চট্টগ্রাম
১৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। নাঈম শেখ করেন ১০ বলে ৯ রান, আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান ছাড়াই বিদায় নেন।
এরপর জাহিদুজ্জামান ও মির্জা বেগ কিছুটা সময় উইকেটে টিকে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তাদের ধীরগতির ব্যাটিং ম্যাচকে আরও চট্টগ্রামের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন, আর মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে বিদায় নেন।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভার ৫ বলে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত দাপট
রাজশাহীর বোলিং আক্রমণ পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল ধারালো। শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট তুলে নেন। তাকে ভালোভাবে সহায়তা করেন হাসান মুরাদ, যিনি নেন ৩টি উইকেট। জিমি নিশাম শিকার করেন ২টি উইকেট।
সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্সে একপেশে ফাইনাল জিতে বিপিএলের শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।