বিশ্বকাপ মানেই চাপ, আর সেই চাপের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলফার্ড লিখে ফেললেন নিজের ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বুধবার (২৯ অক্টোবর) তিনি খেললেন এক অনবদ্য সেঞ্চুরি ইনিংস, যা শুধু তার ক্যারিয়ার নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসেও নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করল।
ইংল্যান্ড টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে, উলফার্ডের ব্যাট থেকে ঝরে পড়তে থাকে পরপর চমৎকার শট। বাঁহাতি স্পিনার লিনসি স্মিথ-এর বিপক্ষে তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। পাওয়ারপ্লেতেই কয়েকটি বাউন্ডারি ও নিখুঁত কভার ড্রাইভে তিনি বুঝিয়ে দেন—আজ অন্য দিনের মতো নয়, আজ তিনি রানের জন্য মরিয়া।
পার্টনারশিপে স্থিতি, একক ইনিংসে জ্বালা
উদ্বোধনী জুটিতে উলফার্ড ও তার সঙ্গী গড়েন ১১৬ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। প্রথম উইকেট পতনের পর কিছুটা চাপে পড়লেও অভিজ্ঞ মারিজান ক্যাপ-এর সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ৭২ রানের জুটি। দলের উইকেট যখন একের পর এক পড়ছিল, উলফার্ড তখন ছিলেন পাথরের মতো স্থির।
ক্যাপ আউট হওয়ার পর দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক। একের পর এক সিঙ্গেল, টু আর প্রয়োজনীয় বাউন্ডারিতে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার তুলে নেন জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় শতরান।
ইতিহাসের পাতায় অনন্য নাম
এই ইনিংস শুধু তার ব্যক্তিগত প্রথম বিশ্বকাপ শতরানই নয়, বরং নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো অধিনায়িকার করা প্রথম সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে তার মোট শতকের সংখ্যা দাঁড়াল ১০, যা তাকে নারী ওয়ানডে ইতিহাসের যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে নিয়ে গেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনুপ্রেরণা
উলফার্ডের এই ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকা দলের জন্য এক বিশাল প্রেরণা। তার ব্যাটে দেখা গেছে দায়িত্বশীলতা, শৈল্পিকতা ও নিখুঁত ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার মিশেল। বড় ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স দলকে শুধু ফাইনালের পথে নয়, ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাসেও এগিয়ে নেবে অনেকটা।

দৈনিক টার্গেট 























