বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত অক্টোবরের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন আইসিসির কাছে পাঠিয়েছে। সূত্রের খবর, আজ বা আগামীকাল এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইসিসি থেকে কিছু নির্দেশনা আসতে পারে। এরপরই বিসিবির বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্বস্ত সূত্রের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে যায়, তাতে কেউ অবাক হবেন না। তবে একই সঙ্গে অনেকে মনে করছেন, এত সহজে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না। বিসিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, “বোর্ড থাকুক বা না থাকুক, আমাদের কাজ করতে হবে। তবে এই পরিস্থিতিতে অস্থিরতা স্বাভাবিক। যদি আজই বোর্ড ভেঙে যায়, তখনও আমরা জরুরি মেইল তৈরি বা অন্যান্য কাজ করতে বাধ্য হবো।”
জানা যায়, গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে গিয়ে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট এখন আইসিসির হাতে পৌঁছেছে। কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিসিবির নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়নি। এ বিষয়ে বর্তমান পরিচালকদের মধ্যেও একাধিক ব্যক্তি তদন্ত কমিটিকে তথ্য দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, যদি বোর্ড ভেঙে যায়, তা হলে ১৫ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হতে পারে। সূত্র জানিয়েছে, এই কমিটি তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ২৫ জনের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটার, সাংবাদিক এবং ক্রিকেট সংগঠকরা রয়েছেন। উল্লেখ্য, বিসিবির ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন কার্যক্রমে রয়েছেন, এবং দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস না যেতেই সাতজন ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন।
বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি হতে যাচ্ছি বোর্ড থেকে পদত্যাগকারী শেষ ব্যক্তি।” এ মন্তব্য বোর্ডে সম্ভাব্য পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিসিবি এবং আইসিসি উভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে ক্রীড়া বিশ্ব। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ও বোর্ডের স্থিতিশীলতার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে যদি বর্তমান বোর্ড না থাকে, তা হলে সংস্থা ও খেলোয়াড়দের জন্য কার্যক্রম কিছুটা জটিল হতে পারে।
















Leave a Reply