সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনাকে আরও কেন্দ্রীভূত ও সরল করতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে Meta Platforms।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে আলাদা করে চালু থাকা Messenger.com ওয়েবসাইট এবং মেসেঞ্জারের স্বতন্ত্র ডেস্কটপ অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে কম্পিউটার ব্রাউজারভিত্তিক স্বতন্ত্র মেসেঞ্জার সেবা আর থাকছে না।
এক প্ল্যাটফর্মে একীভূত হচ্ছে বার্তা আদান-প্রদান
প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, এতদিন Messenger.com একটি আলাদা ওয়েব প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা আর সরাসরি ওই সাইটে গিয়ে চ্যাট করতে পারবেন না। পরিবর্তে, মূল ফেসবুক ইন্টারফেসের ভেতর থেকেই মেসেজিং সুবিধা ব্যবহার করতে হবে।
অর্থাৎ, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের এখন থেকে ফেসবুকে লগইন করেই বার্তা পাঠানো ও গ্রহণ করতে হবে। এতে আলাদা করে মেসেঞ্জার সাইট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবহারকারীদের বড় অংশ মোবাইলকেন্দ্রিক যোগাযোগে ঝুঁকেছেন। স্মার্টফোন অ্যাপ এখন অধিকাংশ মানুষের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। এই বাস্তবতায় আলাদা ওয়েব প্ল্যাটফর্ম চালু রাখা ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
মেটা মূলত তাদের সেবাগুলোকে আরও সমন্বিত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহজ কাঠামোয় আনতে চায়। একাধিক প্ল্যাটফর্ম আলাদাভাবে পরিচালনার পরিবর্তে একীভূত অবকাঠামো তৈরি করলে আপডেট, নিরাপত্তা ও নতুন ফিচার সংযোজন আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে-এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
কারা বেশি প্রভাবিত হবেন?
এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে তাদের ওপর, যারা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই শুধু Messenger.com ব্যবহার করতেন। ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেলে তাদের ফেসবুক আইডি দিয়ে লগইন করতে হবে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো-আগের চ্যাট ইতিহাস হারিয়ে যাবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা তাদের পূর্ববর্তী কথোপকথন আগের মতোই দেখতে পারবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিন (PIN) ব্যবস্থার মাধ্যমেও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চ্যাট ইতিহাস পুনরুদ্ধার বা পুনঃস্থাপন করা যাবে।
সামনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
ডেস্কটপ অ্যাপ বন্ধের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মেটা ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপ ও মূল ফেসবুক প্ল্যাটফর্মকেই অগ্রাধিকার দেবে। এতে ব্যবহারকারীদের জন্য অভিজ্ঞতা আরও সরল ও অভিন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আলাদা মেসেঞ্জার ওয়েবসাইট বন্ধের সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন প্রযুক্তিগত পুনর্গঠন ও ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবে। এখন দেখার বিষয়-এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের কাছে কতটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়।