জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট সেবা চালুর অপেক্ষায় লাখো ফ্রিল্যান্সার

বাংলাদেশে এখনো স্বপ্নই রইল পেপাল!

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৩০ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রসর হলেও এখনো একটি বড় সমস্যায় ভুগছে দেশের লাখো তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট সেবা পেপাল (PayPal) বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি। ফলে বিদেশ থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখের বেশি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন। তবে আয় করার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় টাকা উত্তোলনে। যেসব দেশে পেপাল চালু আছে, সেসব দেশের ফ্রিল্যান্সাররা এক ক্লিকেই নিরাপদে টাকা পেয়ে যান। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণদের সেই সুযোগ নেই।

বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে পেপাল না থাকার কারণে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছেন। কেউ ব্যাংক ট্রান্সফার, কেউ মানি এক্সচেঞ্জ, আবার কেউ থার্ড পার্টি সার্ভিস ব্যবহার করছেন। তবে এসব সেবায় লেনদেন ফি অনেক বেশি এবং সময়ও বেশি লাগে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকিও থেকে যায়।

রাজধানীর এক তরুণ ফ্রিল্যান্সার জানান, “আমাদের আয় করা ডলার দেশে আনার জন্য অনেক সময় এজেন্ট বা বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হয়। সেখানে ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়। অথচ যদি পেপাল থাকত, তাহলে এক ক্লিকেই টাকা তুলতে পারতাম।”

প্রতিবেশী দেশগুলোতে পেপাল

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পেপাল চালু আছে। এসব দেশে তরুণরা সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা তুলতে পারছেন। শুধু বাংলাদেশই এখনো এই সেবা থেকে বঞ্চিত। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশে পেপাল চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৈধ পথে আসবে। বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে দেশে প্রচুর অর্থ প্রবেশ করছে, যা সরকারি হিসাবে যুক্ত হচ্ছে না। অথচ পেপাল চালু হলে এই টাকা সরাসরি বৈধ পথে আসবে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

গত কয়েক বছর ধরে সরকার বিভিন্ন সময় পেপাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি আংশিকভাবে “এক্স-প্রেস” সেবা চালু হয়েছিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পেপাল চালু হয়নি। ফলে তরুণদের আশা পূরণ হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পেপাল চালু করার ক্ষেত্রে নীতিমালা, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্ম মনে করে, সরকার চাইলে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করতে পারে।

ফ্রিল্যান্সারদের স্বপ্ন

বাংলাদেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস। অথচ তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অর্থ লেনদেনে।

তাদের একটাই দাবি “যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে পেপাল চালু করা হোক, যাতে বৈধ পথে আয়ের টাকা দেশে আনা যায়।”

যত দিন না বাংলাদেশে পেপাল চালু হচ্ছে, তত দিন ফ্রিল্যান্সারদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট সেবা চালুর অপেক্ষায় লাখো ফ্রিল্যান্সার

বাংলাদেশে এখনো স্বপ্নই রইল পেপাল!

প্রকাশ: ০৮:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রসর হলেও এখনো একটি বড় সমস্যায় ভুগছে দেশের লাখো তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট সেবা পেপাল (PayPal) বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি। ফলে বিদেশ থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখের বেশি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন। তবে আয় করার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় টাকা উত্তোলনে। যেসব দেশে পেপাল চালু আছে, সেসব দেশের ফ্রিল্যান্সাররা এক ক্লিকেই নিরাপদে টাকা পেয়ে যান। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণদের সেই সুযোগ নেই।

বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে পেপাল না থাকার কারণে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছেন। কেউ ব্যাংক ট্রান্সফার, কেউ মানি এক্সচেঞ্জ, আবার কেউ থার্ড পার্টি সার্ভিস ব্যবহার করছেন। তবে এসব সেবায় লেনদেন ফি অনেক বেশি এবং সময়ও বেশি লাগে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকিও থেকে যায়।

রাজধানীর এক তরুণ ফ্রিল্যান্সার জানান, “আমাদের আয় করা ডলার দেশে আনার জন্য অনেক সময় এজেন্ট বা বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হয়। সেখানে ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়। অথচ যদি পেপাল থাকত, তাহলে এক ক্লিকেই টাকা তুলতে পারতাম।”

প্রতিবেশী দেশগুলোতে পেপাল

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পেপাল চালু আছে। এসব দেশে তরুণরা সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা তুলতে পারছেন। শুধু বাংলাদেশই এখনো এই সেবা থেকে বঞ্চিত। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশে পেপাল চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৈধ পথে আসবে। বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে দেশে প্রচুর অর্থ প্রবেশ করছে, যা সরকারি হিসাবে যুক্ত হচ্ছে না। অথচ পেপাল চালু হলে এই টাকা সরাসরি বৈধ পথে আসবে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

গত কয়েক বছর ধরে সরকার বিভিন্ন সময় পেপাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি আংশিকভাবে “এক্স-প্রেস” সেবা চালু হয়েছিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পেপাল চালু হয়নি। ফলে তরুণদের আশা পূরণ হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পেপাল চালু করার ক্ষেত্রে নীতিমালা, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্ম মনে করে, সরকার চাইলে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করতে পারে।

ফ্রিল্যান্সারদের স্বপ্ন

বাংলাদেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস। অথচ তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অর্থ লেনদেনে।

তাদের একটাই দাবি “যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে পেপাল চালু করা হোক, যাতে বৈধ পথে আয়ের টাকা দেশে আনা যায়।”

যত দিন না বাংলাদেশে পেপাল চালু হচ্ছে, তত দিন ফ্রিল্যান্সারদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন