বিমানে মোবাইল ব্যবহারে কেন সতর্ক থাকতে হয়

বিমানে ফোন উড়ান মোড বন্ধ রাখতে হবে কেন?

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • ২৫৩ বার পঠিত হয়েছে

বিমানে ওঠার পর যাত্রীরা প্রায়ই একটি ঘোষণা শুনে থাকেন “দয়া করে আপনার মোবাইল ফোন উড়ান মোডে চালু করুন।” অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভাবেন এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নিয়ম। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট্ট নির্দেশনার পেছনে লুকিয়ে আছে একটি বড় নিরাপত্তার ব্যাখ্যা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে আকাশপথে চলার সময় এটি ব্যবহারে কিছু বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, যার পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুতর কারণ।

উড়ান মোড কী?

উড়ান মোড বা বিমান মোড একটি বিশেষ ধরণের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য। এই মোড চালু করলে মোবাইলের মাধ্যমে কোনো রকম তরঙ্গ যোগাযোগ (যেমন: সিমের নেটওয়ার্ক, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ) বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, ফোন তখন আর বাইরে কোনো সংকেত প্রেরণ বা গ্রহণ করতে পারে না।

এই মোড চালু থাকলেও যন্ত্রটি একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না। ছবি তোলা, লেখা লেখা, ভিডিও দেখা কিংবা গান শোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

যন্ত্রের সঙ্গে তরঙ্গের সংঘর্ষ

কেন এটি জরুরি?

বিমান চলাকালীন সময়ে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো খুবই সংবেদনশীল। মোবাইল ফোন থেকে যে ধরণের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নির্গত হয়, তা কখনো কখনো বিমানের যন্ত্রের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ককপিটে ভুল সংকেত পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে উচ্চতা বা গতির তথ্য ভ্রান্ত হতে পারে।

টাওয়ারের সঙ্গে অস্থির সংযোগ

বিমান যখন আকাশে থাকে, তখন মাটির নিচের বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে ফোন বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনরায় যুক্ত হতে চায়। এটি মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক ধরণের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং একই সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিনিষেধ

বিমান একটি নিয়ন্ত্রিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়। এই পরিবেশে মোবাইল ফোনের তরঙ্গ অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়, যেটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি পর্যায়। এই সময় পাইলট এবং কেবিনকর্মীদের সঙ্গে বিমানের বাইরে যোগাযোগ রাখতে হয়। মোবাইলের তরঙ্গ সেই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

যাত্রীদের দায়িত্ব

একজন দায়িত্বশীল যাত্রী হিসেবে বিমানে ওঠার পরপরই মোবাইল ফোন উড়ান মোডে চালু করা উচিত। কেবিনকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা একটি নাগরিক দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কেউ উড়ান মোড চালু না করে ইচ্ছেমতো ফোন ব্যবহার করেন। এতে নিজের পাশাপাশি শতাধিক যাত্রীর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

আইনগত দিক

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বিমানে মোবাইল ফোন উড়ান মোডে রাখার নির্দেশ আইনত বাধ্যতামূলক। এটি অমান্য করা হলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নতি হলেও ঝুঁকি এখনো আছে

অনেকে ভাবেন, এখন তো অনেক বিমানে আকাশপথে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। তাহলে ফোন কেন নিষিদ্ধ? আসলে বিমানে ব্যবহৃত ইন্টারনেট একটি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, যা বিমানের যন্ত্রপাতির সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে না।

তবে মোবাইলের সাধারণ সিম ভিত্তিক নেটওয়ার্ক একেবারেই ভিন্ন। তাই তা বন্ধ রাখা এখনো বাধ্যতামূলক।

কী করা যাবে উড়ান মোডে?

  • গান শোনা (ফোনে সংরক্ষিত থাকলে)
  • ছবি তোলা
  • ভিডিও দেখা
  • বই পড়া
  • নোট লেখা
  • অফলাইন গেম খেলা

উড়ান মোড চালু রাখার নির্দেশ কেবল একটি নিয়ম নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ববোধ। শত শত যাত্রী নিয়ে উড়াল দেয়া একটি বিমানের প্রতিটি যন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। মোবাইল ফোনের তরঙ্গ যাতে কোনোভাবে এই ব্যবস্থাকে ব্যাহত না করে, সে জন্যই এই নির্দেশনা।

একটি মোবাইল ফোন যদি ভুল সময়ে চালু থাকে, তবে তা কেবল একটি মানুষের জন্য নয়, পুরো বিমানের যাত্রীদের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে ছোট্ট এই কাজটি অবশ্যই পালন করা উচিত।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
জনপ্রিয় টার্গেট

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

বিমানে মোবাইল ব্যবহারে কেন সতর্ক থাকতে হয়

বিমানে ফোন উড়ান মোড বন্ধ রাখতে হবে কেন?

প্রকাশ: ০৩:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

বিমানে ওঠার পর যাত্রীরা প্রায়ই একটি ঘোষণা শুনে থাকেন “দয়া করে আপনার মোবাইল ফোন উড়ান মোডে চালু করুন।” অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভাবেন এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নিয়ম। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট্ট নির্দেশনার পেছনে লুকিয়ে আছে একটি বড় নিরাপত্তার ব্যাখ্যা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে আকাশপথে চলার সময় এটি ব্যবহারে কিছু বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, যার পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুতর কারণ।

উড়ান মোড কী?

উড়ান মোড বা বিমান মোড একটি বিশেষ ধরণের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য। এই মোড চালু করলে মোবাইলের মাধ্যমে কোনো রকম তরঙ্গ যোগাযোগ (যেমন: সিমের নেটওয়ার্ক, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ) বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, ফোন তখন আর বাইরে কোনো সংকেত প্রেরণ বা গ্রহণ করতে পারে না।

এই মোড চালু থাকলেও যন্ত্রটি একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না। ছবি তোলা, লেখা লেখা, ভিডিও দেখা কিংবা গান শোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

যন্ত্রের সঙ্গে তরঙ্গের সংঘর্ষ

কেন এটি জরুরি?

বিমান চলাকালীন সময়ে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো খুবই সংবেদনশীল। মোবাইল ফোন থেকে যে ধরণের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নির্গত হয়, তা কখনো কখনো বিমানের যন্ত্রের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ককপিটে ভুল সংকেত পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে উচ্চতা বা গতির তথ্য ভ্রান্ত হতে পারে।

টাওয়ারের সঙ্গে অস্থির সংযোগ

বিমান যখন আকাশে থাকে, তখন মাটির নিচের বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে ফোন বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনরায় যুক্ত হতে চায়। এটি মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক ধরণের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং একই সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিনিষেধ

বিমান একটি নিয়ন্ত্রিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়। এই পরিবেশে মোবাইল ফোনের তরঙ্গ অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়, যেটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি পর্যায়। এই সময় পাইলট এবং কেবিনকর্মীদের সঙ্গে বিমানের বাইরে যোগাযোগ রাখতে হয়। মোবাইলের তরঙ্গ সেই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

যাত্রীদের দায়িত্ব

একজন দায়িত্বশীল যাত্রী হিসেবে বিমানে ওঠার পরপরই মোবাইল ফোন উড়ান মোডে চালু করা উচিত। কেবিনকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা একটি নাগরিক দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কেউ উড়ান মোড চালু না করে ইচ্ছেমতো ফোন ব্যবহার করেন। এতে নিজের পাশাপাশি শতাধিক যাত্রীর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

আইনগত দিক

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বিমানে মোবাইল ফোন উড়ান মোডে রাখার নির্দেশ আইনত বাধ্যতামূলক। এটি অমান্য করা হলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নতি হলেও ঝুঁকি এখনো আছে

অনেকে ভাবেন, এখন তো অনেক বিমানে আকাশপথে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। তাহলে ফোন কেন নিষিদ্ধ? আসলে বিমানে ব্যবহৃত ইন্টারনেট একটি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, যা বিমানের যন্ত্রপাতির সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে না।

তবে মোবাইলের সাধারণ সিম ভিত্তিক নেটওয়ার্ক একেবারেই ভিন্ন। তাই তা বন্ধ রাখা এখনো বাধ্যতামূলক।

কী করা যাবে উড়ান মোডে?

  • গান শোনা (ফোনে সংরক্ষিত থাকলে)
  • ছবি তোলা
  • ভিডিও দেখা
  • বই পড়া
  • নোট লেখা
  • অফলাইন গেম খেলা

উড়ান মোড চালু রাখার নির্দেশ কেবল একটি নিয়ম নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ববোধ। শত শত যাত্রী নিয়ে উড়াল দেয়া একটি বিমানের প্রতিটি যন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। মোবাইল ফোনের তরঙ্গ যাতে কোনোভাবে এই ব্যবস্থাকে ব্যাহত না করে, সে জন্যই এই নির্দেশনা।

একটি মোবাইল ফোন যদি ভুল সময়ে চালু থাকে, তবে তা কেবল একটি মানুষের জন্য নয়, পুরো বিমানের যাত্রীদের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে ছোট্ট এই কাজটি অবশ্যই পালন করা উচিত।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন