Site icon দৈনিক টার্গেট

ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক রকেট ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে ইরান থেকেও এসেছে কঠোর সতর্কবার্তা, যা অঞ্চলটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে লেবাননের সীমান্তবর্তী মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাদের যোদ্ধারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করে। এর কিছু সময়ের মধ্যেই মেনাহেম এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে আরেকটি হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব হামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে ঘটনাগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইরানের কড়া বার্তা

এদিকে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব থেকেও শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি বাহিনী স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন এবং প্রতিটি গতিবিধি নজরে রাখার আহ্বান জানান।

তার ভাষায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, প্রয়োজন হলে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ঘিরে দেওয়া কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের সেনাপ্রধান। বিশেষ করে যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে পুনর্গঠনের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

তার মতে, এই ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। তিনি এটিকে বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন, যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।

বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে হামলা, পাল্টা হুমকি এবং বড় শক্তিগুলোর তৎপরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Exit mobile version