Site icon দৈনিক টার্গেট

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। এবার সরাসরি ইসরাইলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী তেলআবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শনিবার রাতে এই অভূতপূর্ব হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরাইলের সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার তরল ও কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, একটি গবেষণা কেন্দ্র, সামরিক সহায়তা ঘাঁটি, নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টার।

যুদ্ধের সাইরেনে কাঁপছে ইসরাইল

হামলার পরপরই ইসরাইলজুড়ে যুদ্ধের সাইরেন বেজে ওঠে। টাইমস অব ইসরাইল জানায়, আতঙ্কে রাজধানী তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকে। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দুই দফায় ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলাটি দুই দফায় সম্পন্ন হয়। প্রথম দফায় ২২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের অভ্যন্তরে আঘাত হানে। এটি ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রথমবারের মতো এমন সংঘবদ্ধ এবং ব্যাপক হামলা।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, “আমরা হামলার সূত্রস্থল শনাক্ত করছি এবং পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, অনেক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।”

একাধিক শহরে ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার অভিযান চলছে

ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, হাইফা, কারমেল, তেলআবিব ও উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ১০টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ধ্বংসস্তুপের নিচে মানুষ আটকে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খোঁজে দিনরাত কাজ করছেন। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বেন গুরিয়নের সব উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইরানের হুঁশিয়ারি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

হামলার পর ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এটি ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের পাল্টা জবাব। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র বলেন, “যদি আমাদের ভূখণ্ডে আরও কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়, তবে আমাদের জবাব হবে আরও কঠোর।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করা হবে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে

এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ভয়াবহভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে। সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘর্ষ বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় আনতে পারে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে উভয়পক্ষকে সংযম দেখাতে বাধ্য করা না হলে এর পরিণতি হতে পারে অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ।

Exit mobile version