লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় কংগ্রেসের অভিশংসনের মুখে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হোসে হেরি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!একটি গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত তার পদচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
‘চিফাগেট’ কীভাবে বিতর্কের কেন্দ্রে এলো?
সম্প্রতি ‘চিফাগেট’ নামে পরিচিত একটি কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ‘চিফা’ মূলত পেরুতে জনপ্রিয় চীনা খাবারের রেস্তোরাঁগুলোর একটি পরিচিত নাম। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে একটি চিফা রেস্তোরাঁয় গোপনে প্রবেশ করেন প্রেসিডেন্ট হেরি। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে হুডি পরে ওই রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেখা যায়।
সেখানে তিনি চীনা ব্যবসায়ী জিহুয়া ইয়াং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা যায়। ইয়াংয়ের পেরুতে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সম্প্রতি একটি জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদনও পেয়েছেন। কিন্তু এই বৈঠকের বিষয়টি সরকারি নথি বা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ঠিক এই গোপনীয়তাকেই কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠে-রাষ্ট্রপ্রধান কি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাব খাটিয়েছেন?
কংগ্রেসে অভিশংসন ভোট
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের পর কংগ্রেসে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ৭৫ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৪টি। তিনজন সদস্য ভোটদানে অংশ নেননি। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট হেরির অপসারণ কার্যকর হয়।
টানা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট অপসারণ
পেরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। গত এক দশক ধরে দেশটি সরকার পরিবর্তন, কংগ্রেস–প্রেসিডেন্ট দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায় এসেছে। হেরিকে অপসারণের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্বকাল পূর্ণ করতে ব্যর্থ হলেন। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বিতর্ক তার মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করে দিল।
এখন কী হবে?
আগামী ১২ এপ্রিল জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের বর্তমান প্রধান রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন। এই পদে রয়েছেন ফার্নান্দো রসপিগলিওসি। তবে তিনি দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফলে কংগ্রেসকে নতুন স্পিকার নির্বাচন করতে হবে, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নেতৃত্ব নির্ধারণ না হলে পেরুর অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে।
পেরুর সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করল-দেশটির রাজনীতি এখনো স্থিতিশীলতার খোঁজে। আসন্ন নির্বাচন সেই স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
দৈনিক টার্গেট 















