নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নাটকীয়তার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ডানপন্থী ব্যবসায়ী অনুতিম চার্নভিরাকুল। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পান।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এ জয়ের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার সিনাওয়াত্রাদের ক্ষমতার অধ্যায় আপাতত শেষ হলো। আদালতের নির্দেশে পরিবারটির উত্তরসূরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেইতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে সম্প্রতি পদচ্যুত করা হয়।
নির্মাণ ব্যবসা থেকে রাজনীতির শীর্ষে পেশায় নির্মাণখাতের সফল উদ্যোক্তা অনুতিম চার্নভিরাকুল। তার পারিবারিক কোম্পানিই দেশটির সংসদ ভবন নির্মাণ করেছে। রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৩ সালের নির্বাচনে অনুতিম ফিউ থাই পার্টির হয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের গ্রীষ্মে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তবিষয়ক বিরোধ নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেইতংতার্ন সিনাওয়াত্রার অবস্থানকে সমর্থন না করায় দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।
সিনাওয়াত্রা পরিবারের পতন দুই দশকের বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল সিনাওয়াত্রা পরিবার। বিশেষ করে ২০২৩ সালের নির্বাচনের পর থেকে ফিউ থাই পার্টি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
করোনা সংকটে আলোচনায় কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে অনুতিম চার্নভিরাকুলের ভূমিকা দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তিনি শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলোকে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছিলেন। ব্যাপক সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা থাইল্যান্ডের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুতিম চার্নভিরাকুলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা।