ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে— প্রতিরক্ষা, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে আসছে নতুন সম্ভাবনা

মোদির ভূমিকায় কৃতজ্ঞ ইসরায়েল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৫ বার পঠিত হয়েছে

মিত্র দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়’-এ পৌঁছানো বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। মঙ্গলবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখন নতুন গতি পেয়েছে এবং শিগগিরই প্রতিরক্ষা খাতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গিডিয়ন সার বলেন, “ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে। ভারতের বন্ধুত্ব ও সমর্থনের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

হামাস হামলার পর ভারতের ভূমিকা নিয়ে কৃতজ্ঞতা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার হামাসের হামলার পর ভারতের দ্রুত নিন্দা জানানোর ঘটনায় নয়াদিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসরায়েলের এই মন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “আমরা কখনো ভুলব না— সেই ভয়াবহ দিনের প্রথম দিকের বিশ্বনেতাদের একজন ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। এটি আমাদের কাছে বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে ইসরায়েলের অবস্থান

ফিলিস্তিন প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গিডিয়ন সার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাঁর মতে, অতীতের ভুল আর পুনরাবৃত্তি করতে চায় না তেল আবিব, এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনাই এখন বাস্তবসম্মত পথ।’

সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতায় ঘনিষ্ঠতা

গিডিয়ন সার বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অভিজ্ঞতা আমাদের মতোই গভীর। ভারত যেমন লস্কর-ই-তৈয়বাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমরাও একই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশ হাতে হাত রেখে কাজ করছে।”

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

তিনি আরও যোগ করেন, “ইসরায়েলের সন্ত্রাসবিরোধী অভিজ্ঞতা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। আমরা সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দিগন্ত

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে এখন একটি নতুন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা কাঠামো গড়ে উঠছে, যা সম্পর্ককে ‘বাস্তব কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপ দেবে।

“প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে যোগাযোগ অত্যন্ত উন্মুক্ত ও কৌশলগত পর্যায়ের,” বলেন গিডিয়ন সার। “আমি আশাবাদী, তারা শিগগিরই আবার সাক্ষাৎ করবেন। ভারত ভবিষ্যতের প্রতীক, আর ইসরায়েল আঞ্চলিক শক্তি— একসঙ্গে আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে পারব।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে ইসরায়েলি উপস্থিতি

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে গিডিয়ন সার জানান, আগামী বছর ভারতে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্মেলনে অংশ নিতে ইসরায়েল একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাবে। তাঁর ভাষায়, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারত-ইসরায়েল বন্ধন আরও গভীর হবে।”


সংবাদ বিশ্লেষণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদানে দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে। গিডিয়ন সার-এর এই সাক্ষাৎকার সেই কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে— প্রতিরক্ষা, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে আসছে নতুন সম্ভাবনা

মোদির ভূমিকায় কৃতজ্ঞ ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

মিত্র দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়’-এ পৌঁছানো বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। মঙ্গলবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখন নতুন গতি পেয়েছে এবং শিগগিরই প্রতিরক্ষা খাতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গিডিয়ন সার বলেন, “ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে। ভারতের বন্ধুত্ব ও সমর্থনের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

হামাস হামলার পর ভারতের ভূমিকা নিয়ে কৃতজ্ঞতা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার হামাসের হামলার পর ভারতের দ্রুত নিন্দা জানানোর ঘটনায় নয়াদিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসরায়েলের এই মন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “আমরা কখনো ভুলব না— সেই ভয়াবহ দিনের প্রথম দিকের বিশ্বনেতাদের একজন ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। এটি আমাদের কাছে বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে ইসরায়েলের অবস্থান

ফিলিস্তিন প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গিডিয়ন সার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাঁর মতে, অতীতের ভুল আর পুনরাবৃত্তি করতে চায় না তেল আবিব, এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনাই এখন বাস্তবসম্মত পথ।’

সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতায় ঘনিষ্ঠতা

গিডিয়ন সার বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অভিজ্ঞতা আমাদের মতোই গভীর। ভারত যেমন লস্কর-ই-তৈয়বাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমরাও একই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশ হাতে হাত রেখে কাজ করছে।”

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

তিনি আরও যোগ করেন, “ইসরায়েলের সন্ত্রাসবিরোধী অভিজ্ঞতা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। আমরা সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দিগন্ত

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে এখন একটি নতুন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা কাঠামো গড়ে উঠছে, যা সম্পর্ককে ‘বাস্তব কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপ দেবে।

“প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে যোগাযোগ অত্যন্ত উন্মুক্ত ও কৌশলগত পর্যায়ের,” বলেন গিডিয়ন সার। “আমি আশাবাদী, তারা শিগগিরই আবার সাক্ষাৎ করবেন। ভারত ভবিষ্যতের প্রতীক, আর ইসরায়েল আঞ্চলিক শক্তি— একসঙ্গে আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে পারব।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে ইসরায়েলি উপস্থিতি

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে গিডিয়ন সার জানান, আগামী বছর ভারতে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্মেলনে অংশ নিতে ইসরায়েল একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাবে। তাঁর ভাষায়, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারত-ইসরায়েল বন্ধন আরও গভীর হবে।”


সংবাদ বিশ্লেষণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদানে দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে। গিডিয়ন সার-এর এই সাক্ষাৎকার সেই কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন