Site icon দৈনিক টার্গেট

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইরানে শেষ ধাপে ভয়াবহ হামলা

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে আরও জোরালো অভিযান চালানো হবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একাধিক অস্ত্র কারখানা এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান এখনো সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি এবং বিভিন্নভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে দেশটির পারমাণবিক অগ্রগতি অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তার দাবি। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ এ বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।

অতীতের পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় করা ওই চুক্তি কার্যকর থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়ত।

ভাষণে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, শাসন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল না, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশটির নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। শুরুতে দাম কমলেও পরে তা আবার বাড়তে থাকে।

অভিযানের সময়কাল তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, অতীতের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধগুলোর তুলনায় বর্তমান অভিযান খুব অল্প সময়েই বড় ধরনের ফলাফল এনে দিয়েছে। তার মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে যেমন দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনি শেষ ধাপে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

Exit mobile version