২৩ আগস্ট ভোরে ইউক্রেনের অভিজ্ঞ মিগ-২৯ পাইলট মেজর সের্হিই বন্ডার একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেন বিমানবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মেজর বন্ডার তার যুদ্ধ মিশন শেষ করার পর বিমান অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে। তবে বিমানবাহিনী জানিয়েছে, পাইলট কোন ধরনের মিশন সম্পন্ন করেছিলেন তা আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার আকাশপথে হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউক্রেনীয় পাইলটরা ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব হামলা প্রতিহত করার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বিশেষ করে ২৩ আগস্ট রাতে রাশিয়া ইউক্রেনে ৪৯টি শাহেদ যুদ্ধ ড্রোন পাঠায়। এর মধ্যে ১৩টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, বাকি ৩৬টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়।
মেজর বন্ডারকে গত জুন মাসে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাক্ষরিত ডিক্রিতে তাকে ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অসামান্য সাহসিকতা এবং দায়িত্বশীলতার জন্য’ পুরস্কৃত করা হয়। ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করা এই পাইলট ইউক্রেনীয় বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন।
ইউক্রেনের আকাশযুদ্ধের ইতিহাসে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক পাইলটের জীবনহানি ঘটেছে। চলতি বছরের জুনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্যাকসিম উস্তিমেনকোও একইভাবে প্রাণ হারান। তিনি রাশিয়ার ৪৭৭টি ড্রোন এবং ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার অভিযানে সাতটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছিলেন। কিন্তু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি ভূপাতিত হন।
মেজর বন্ডারের মৃত্যু ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি বড় ক্ষতি। দেশজুড়ে তার সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার জন্য শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।