মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান -এর সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে কথা হয়েছে।
একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস -এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আলাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তাসংস্থা (আনাদোলু বার্তা সংস্থা)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তেহরানের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এসব প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ (হরমুজ প্রণালি)-তে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সীমিত বার্তা আদান-প্রদান হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় রূপ নেয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে ইরান ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কৌশলগত দ্বন্দ্বের কারণে সমাধানের পথ এখনো জটিল। আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে।














