গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গ্রেটা থুনবার্গসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে

গাজা ফ্লোটিলা আটক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫৫ বার পঠিত হয়েছে

আটক কর্মী

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বহু আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে আটক করে ইসরাইলের সমুদ্রবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আটক কর্মীদের ছবি প্রকাশ করেছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তাদেরকে আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ সেখানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বহরটি কেন আটক হলো?

ইসরাইল শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, ফ্লোটিলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তারা। ইসরাইল বলছে, আটক কর্মীদের ইউরোপে ফেরত পাঠাতে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে না, পুরো দিন লেগে যেতে পারে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি

এখনো ফ্লোটিলার বাকি জাহাজগুলোর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি নৌবাহিনীর ঘনিষ্ঠ নজরদারির কারণে অনেক সময় নৌযানগুলোর সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কখনো স্যাটেলাইট সংযোগ দুর্বল হচ্ছে, আবার কখনো কর্মীরা নিজেদের ফোন নষ্ট করে দিচ্ছেন যাতে আটক হলে তথ্য ব্যবহার করা না যায়।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

একটি জাহাজ গাজা উপকূলে

এদিকে, নৌবহরের মধ্যে থাকা ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে লাইভ ট্র্যাকার জানিয়েছে। তবে সেটিকে ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্তত ২৩টি নৌযান এখনো গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কারা এই বহরে আছেন?

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মূলত বিভিন্ন দেশের বেসামরিক নাগরিকদের উদ্যোগে গঠিত একটি মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ৪০টির বেশি নৌযান নিয়ে গঠিত এ বহরে আছেন ৫০০-এর বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য, বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়ামসহ অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন এই ত্রাণ মিশনে।

যাত্রা শুরু হয়েছিল স্পেন থেকে

এই বহরের প্রথম নৌযান গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে রওনা দেয়। পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিউনিসিয়া, ইতালির সিসিলি ও গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে নতুন নতুন নৌযান যুক্ত হয়। পরিকল্পনা ছিল বৃহস্পতিবার সকালেই পুরো বহর গাজায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু ইসরাইলি অভিযানে সে পথ রুদ্ধ হলো।

বৈশ্বিক আলোচনায় ফ্লোটিলা

মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজায় যাত্রা করা এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে গ্রেটা থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মুখ এতে যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি মনোযোগ কাড়ছে। বর্তমানে পুরো নৌবহরকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
জনপ্রিয় টার্গেট

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গ্রেটা থুনবার্গসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে

গাজা ফ্লোটিলা আটক

প্রকাশ: ০৩:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বহু আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে আটক করে ইসরাইলের সমুদ্রবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আটক কর্মীদের ছবি প্রকাশ করেছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তাদেরকে আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ সেখানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বহরটি কেন আটক হলো?

ইসরাইল শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, ফ্লোটিলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তারা। ইসরাইল বলছে, আটক কর্মীদের ইউরোপে ফেরত পাঠাতে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে না, পুরো দিন লেগে যেতে পারে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি

এখনো ফ্লোটিলার বাকি জাহাজগুলোর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি নৌবাহিনীর ঘনিষ্ঠ নজরদারির কারণে অনেক সময় নৌযানগুলোর সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কখনো স্যাটেলাইট সংযোগ দুর্বল হচ্ছে, আবার কখনো কর্মীরা নিজেদের ফোন নষ্ট করে দিচ্ছেন যাতে আটক হলে তথ্য ব্যবহার করা না যায়।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

একটি জাহাজ গাজা উপকূলে

এদিকে, নৌবহরের মধ্যে থাকা ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে লাইভ ট্র্যাকার জানিয়েছে। তবে সেটিকে ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্তত ২৩টি নৌযান এখনো গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কারা এই বহরে আছেন?

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মূলত বিভিন্ন দেশের বেসামরিক নাগরিকদের উদ্যোগে গঠিত একটি মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ৪০টির বেশি নৌযান নিয়ে গঠিত এ বহরে আছেন ৫০০-এর বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য, বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়ামসহ অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন এই ত্রাণ মিশনে।

যাত্রা শুরু হয়েছিল স্পেন থেকে

এই বহরের প্রথম নৌযান গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে রওনা দেয়। পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিউনিসিয়া, ইতালির সিসিলি ও গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে নতুন নতুন নৌযান যুক্ত হয়। পরিকল্পনা ছিল বৃহস্পতিবার সকালেই পুরো বহর গাজায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু ইসরাইলি অভিযানে সে পথ রুদ্ধ হলো।

বৈশ্বিক আলোচনায় ফ্লোটিলা

মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজায় যাত্রা করা এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে গ্রেটা থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মুখ এতে যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি মনোযোগ কাড়ছে। বর্তমানে পুরো নৌবহরকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন