ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যমানের ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব-১০ এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি যাত্রীবাহী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করলে ৫৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ফেনসিডিলের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার পাথিলা ফার্মপাড়া এলাকার মো. রানা মোল্লা (৩৫) এবং একই থানার বাকা এলাকার মো. লালটু (৩০)। র্যাব জানায়, তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি, দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় তারা নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা থেকে রাজধানীতে মাদক প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে রাজধানীতে মাদক সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে এসব চক্রকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে র্যাব সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক ও টোল প্লাজা ব্যবহার করে প্রায়ই মাদক পরিবহনের চেষ্টা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে অনেক সময় এসব চালান আটক হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া মাদক ও আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে র্যাব ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে পারলে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জেসমিন আক্তার রোদেলা 

























