সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হচ্ছে

আজ ঈদে মিলাদুন্নবী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৮৩ বার পঠিত হয়েছে

মদিনায় নবী মসজিদ

আজ মুসলিম উম্মাহ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করছে। এই দিনে মুসলিমরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন, যা মানবজাতির মুক্তি ও আলোর পথ প্রদর্শনের প্রতীক।

ঐতিহাসিকভাবে, প্রায় এক হাজার চারশো বছর আগে আরবের মরুপ্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন ‘সিরাজাম মুনিরা’ অর্থাৎ আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে। তাঁর আগমনের মাধ্যমে মানুষকে কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করা হয়।

মহানবী (সা.) ছোটবেলা থেকেই আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। হেরা পাহাড়ের গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তিনি আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করতেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ৪০ বছর বয়সে নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন এবং পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। কোরআনে বর্ণিত আছে, মহানবীকে সৃষ্টি না করলে পৃথিবীও সৃষ্ট হতো না।

আজকের দিনে, ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, হামদ-না’ত, ইসলামী বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আন্জুমানে রহমানিয়া, স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষত, ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণে ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণে উদ্দীপনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও শিক্ষা আজকের দ্বন্দ্বময় বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য আরও দৃঢ় হোক।” বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

দেশের সব সরকারি ও আধাসরকারি সংস্থা, হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার ও সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ জেলায়, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী বইমেলাও সারা মাস চলবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ক্বিরাত, বক্তৃতা ও আরবী খুৎবা লিখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

এদিনের অনুষ্ঠানগুলোতে পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেম, গবেষক-শিক্ষাবিদ এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করছেন। এতে নবীজীর (সা.) জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করে মুসলিমরা নৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পুনরায় গ্রহণ করছেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দিন, যা আলোকিত পথপ্রদর্শক মহানবী (সা.)-এর অনন্য শিক্ষা ও উদাহরণ স্মরণে উদযাপন করা হয়।

সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হচ্ছে

আজ ঈদে মিলাদুন্নবী

প্রকাশ: ১২:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আজ মুসলিম উম্মাহ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করছে। এই দিনে মুসলিমরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন, যা মানবজাতির মুক্তি ও আলোর পথ প্রদর্শনের প্রতীক।

ঐতিহাসিকভাবে, প্রায় এক হাজার চারশো বছর আগে আরবের মরুপ্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন ‘সিরাজাম মুনিরা’ অর্থাৎ আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে। তাঁর আগমনের মাধ্যমে মানুষকে কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করা হয়।

মহানবী (সা.) ছোটবেলা থেকেই আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। হেরা পাহাড়ের গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তিনি আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করতেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ৪০ বছর বয়সে নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন এবং পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। কোরআনে বর্ণিত আছে, মহানবীকে সৃষ্টি না করলে পৃথিবীও সৃষ্ট হতো না।

আজকের দিনে, ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, হামদ-না’ত, ইসলামী বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আন্জুমানে রহমানিয়া, স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষত, ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণে ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণে উদ্দীপনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও শিক্ষা আজকের দ্বন্দ্বময় বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য আরও দৃঢ় হোক।” বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

দেশের সব সরকারি ও আধাসরকারি সংস্থা, হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার ও সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ জেলায়, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী বইমেলাও সারা মাস চলবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ক্বিরাত, বক্তৃতা ও আরবী খুৎবা লিখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

এদিনের অনুষ্ঠানগুলোতে পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেম, গবেষক-শিক্ষাবিদ এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করছেন। এতে নবীজীর (সা.) জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করে মুসলিমরা নৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পুনরায় গ্রহণ করছেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দিন, যা আলোকিত পথপ্রদর্শক মহানবী (সা.)-এর অনন্য শিক্ষা ও উদাহরণ স্মরণে উদযাপন করা হয়।