আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে খুলনার কয়রা উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উদ্যোগে ব্যাপক আকারে চৌকস ফুট পেট্রোলিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালিত হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নির্বাচনী সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই ছিল এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
২১ জানুয়ারি সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এ ফুট পেট্রোলিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আসিফ আরাফাতের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নৌবাহিনীর একাধিক সুসজ্জিত দল অংশ নেয়। কয়রা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ফুট পেট্রোলিংয়ের প্রধান রুট ছিল কয়রা উপজেলা সদরের মধুর মোড় থেকে শুরু হয়ে কপোতক্ষ মহাবিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে উপজেলা আবহাওয়া অফিসের সামনের সড়ক হয়ে উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় নৌবাহিনী সদস্যরা সড়কের দু’পাশে অবস্থানরত ব্যবসায়ী, পথচারী, যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইন মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান।
একই সময়ে উপজেলার ঘড়িলাল বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকা এবং আমাদি বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পৃথক পৃথকভাবে আরও কয়েকটি নৌবাহিনীর দল ফুট পেট্রোলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব বাজার এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্কতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়।
ফুট পেট্রোলিং চলাকালে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে অবৈধ অস্ত্র বহন, মজুত ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ- এ তথ্য জনগণকে জানানো হয়। পাশাপাশি মাদক কারবার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও নাশকতামূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। নৌবাহিনী সদস্যরা বলেন, যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে।
সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে ফুটপাত দখল না করা, বাজার ও সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে- এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আসিফ আরাফাত বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ফুট পেট্রোলিংয়ের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। বাংলাদেশ নৌবাহিনী সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
নৌবাহিনীর এ তৎপরতায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জানান, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এবং জনমনে আস্থা সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে কয়রা উপজেলাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টহল, নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 











