আব্দুর রশিদের ইন্তেকালে মেরাজনগরে শোকের ছায়া
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী পূর্ব থানার রুকন জনাব মোঃ আব্দুর রশিদ (৪৮) আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও বেদনার ছায়া।
মরহুম আব্দুর রশিদ ছিলেন একজন অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী ও পরোপকারী মানুষ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নৈতিকতা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মেরাজনগর ‘এ’ ব্লকের ওয়ার্ডের বাইতুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার নিত্য অভ্যাস। অনেকেই বলেন, নিজের সামর্থ্য সীমিত থাকা সত্ত্বেও অন্যের কষ্ট লাঘবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন।
তার সহকর্মীরা জানান, সংগঠনের যেকোনো কাজে তাকে সবসময় আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে পাওয়া যেত। তিনি কখনো ক্লান্তি বা বিরক্তি প্রকাশ করতেন না, বরং হাসিমুখে সকল কাজ সম্পন্ন করতেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি ছিলেন এক বিশ্বস্ত সহচর। তার আচরণ, কথাবার্তা এবং মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ।
আজ সকাল ৯টায় মেরাজনগর বড় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জয়নাল আবেদীন, কদমতলী পূর্ব থানার আমির ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অসংখ্য মুসল্লি। জানাজার সময় চারদিকে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছিল। অনেকেই অশ্রুসজল চোখে প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার দূর্গাপাশা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি কতটা প্রিয় ছিলেন সবার কাছে।
ব্যক্তিজীবনে আব্দুর রশিদ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও নম্র স্বভাবের মানুষ। তিনি সবসময় মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতেন এবং কারো সঙ্গে বিরূপ আচরণ করতেন না। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল সৎকর্মে পরিপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন।
মরহুম তার স্ত্রী ও এক কন্যা রেখে গেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি আজ গভীর শোক ও দুঃখে মুহ্যমান। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর শোকাহত অবস্থায় উপস্থিত সবাই গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের ধৈর্য ধারণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন এবং তার কবরকে প্রশস্ত করুন। একই সঙ্গে তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন -আমিন।
আব্দুর রশিদের চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়- জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী, আর ভালো মানুষগুলো কত দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যায়। তার স্মৃতি, তার কাজ এবং তার মানবিকতা মানুষের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
