গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগ, স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

কয়রায় গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের জামায়াতে যোগদান

খুলনার কয়রা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগদান সম্পন্ন হয়। এ সময় খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুল দিয়ে তাঁরা জামায়াতে যোগ দেন।

জামায়াতে যোগদানকারীরা হলেন- কয়রা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবু হানিফ, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সদস্য আগবারুল হোসেন এবং কয়রা সদর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এসব নেতার দলবদলকে কেন্দ্র করে কয়রা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আদর্শিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন। তাঁদের মতে, জামায়াতে ইসলামের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামো সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই বিশ্বাস থেকেই তারা জামায়াতে ইসলামে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে যারা জামায়াতে ইসলামে যোগ দিচ্ছেন, তারা আমাদের শক্তি। আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চাইলে জামায়াতই সবচেয়ে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুনভাবে যোগদানকারীরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে মাঠপর্যায়ে জামায়াতের কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, এই যোগদানের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন- নতুন ভাইদের আমরা আন্তরিকভাবে বরণ করে নিচ্ছি। জনগণের পাশে থেকে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কয়রা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্যাহ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা সুজাউদ্দিন আহমেদ, কয়রা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জিএম মিজানুর রহমান, কয়রা উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি জিএম মোনায়েম এবং কয়রা সদর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি হাফেজ ডিএম জাহিদুর রহমান। তাঁরা সবাই নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দলীয় ঐক্য ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে আগামী দিনে জামায়াত কয়রা উপজেলায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠান চলাকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যোগদানকারী নেতারা বলেন, তারা মাঠপর্যায়ে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান এবং জামায়াতের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের এই যোগদান কয়রা উপজেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
জনপ্রিয় টার্গেট

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগ, স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

কয়রায় গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের জামায়াতে যোগদান

প্রকাশ: ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগদান সম্পন্ন হয়। এ সময় খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুল দিয়ে তাঁরা জামায়াতে যোগ দেন।

জামায়াতে যোগদানকারীরা হলেন- কয়রা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবু হানিফ, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সদস্য আগবারুল হোসেন এবং কয়রা সদর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এসব নেতার দলবদলকে কেন্দ্র করে কয়রা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আদর্শিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন। তাঁদের মতে, জামায়াতে ইসলামের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামো সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই বিশ্বাস থেকেই তারা জামায়াতে ইসলামে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে যারা জামায়াতে ইসলামে যোগ দিচ্ছেন, তারা আমাদের শক্তি। আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চাইলে জামায়াতই সবচেয়ে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুনভাবে যোগদানকারীরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে মাঠপর্যায়ে জামায়াতের কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, এই যোগদানের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন- নতুন ভাইদের আমরা আন্তরিকভাবে বরণ করে নিচ্ছি। জনগণের পাশে থেকে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কয়রা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্যাহ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা সুজাউদ্দিন আহমেদ, কয়রা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জিএম মিজানুর রহমান, কয়রা উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি জিএম মোনায়েম এবং কয়রা সদর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি হাফেজ ডিএম জাহিদুর রহমান। তাঁরা সবাই নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দলীয় ঐক্য ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে আগামী দিনে জামায়াত কয়রা উপজেলায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠান চলাকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যোগদানকারী নেতারা বলেন, তারা মাঠপর্যায়ে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান এবং জামায়াতের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের এই যোগদান কয়রা উপজেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন