দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

কয়রায় জলবায়ু ধর্মঘট

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের দাবিতে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় মানববন্ধন ও জলবায়ু ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার কাটকাটা গ্রামের নিকটবর্তী নদীর চর এলাকায় স্থানীয় তরুণ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইয়ুথ ল্যাব ও ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রা শাখা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এসময় “জলবায়ুর সুবিচার চাই”, “জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই”, “সৌর ও বায়ু শক্তিতে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ি” এবং “উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে”সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষি ক্ষতির মতো সমস্যায় এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অথচ এই অঞ্চলে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

ইয়ুথ ল্যাবের কয়রা প্রতিনিধি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, উপকূলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করে এমন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের প্রতিনিধি নিরাপদ মুন্ডা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জলবায়ুর সুবিচার শুধু একটি দাবি নয়, এটি উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। তরুণদের অংশগ্রহণে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন সুব্রত মুন্ডা, মনিরুল ইসলাম, সবুজ, সঞ্জয় বাইন, জাকি, আমিনুর ইসলাম ও নয়ন মন্ডল। বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। তাই সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ কমানো এবং সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি জানান। তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে উপকূলীয় জনপদ আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।