দেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পেছনের যুক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভ্রান্তপ্রসূত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আপিলের নবম দিনের শুনানিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সংবিধানে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী নয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পেছনের যুক্তি ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর ফলে দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যা আরও ভয়াবহ।”
গত বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিএনপির পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় জাতির সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য। তিনি উল্লেখ করেন, রায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে।
আপিলের ধারাবাহিকতা
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া গত ২১ অক্টোবর শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন আইনজীবী ও আপিলকারী পক্ষ শুনানিতে অংশ নেন। ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এবং জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এ পর্যন্ত আপিল শুনানি সাত দিনের বেশি চলে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শনিবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার এই বিষয়ে নিয়মিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবিধান ও ইতিহাস
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ২০০৪ সালে এই ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।
২০০৫ সালে আপিলের অনুমতি পাওয়ার পর ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এরপর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাশ হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।
রিভিউ আবেদন
গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। এগুলোর মধ্যে ছিলেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। নওগাঁর রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও এই রিভিউ আবেদন করেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও ২০২৪ সালে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
বর্তমানে আপিল শুনানি নবম দিনে প্রবেশ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল নিয়ে এ আপিলের ফলাফলের দিকে লক্ষ্য রাখছে।
দৈনিক টার্গেট 














