হাইকোর্টের নির্দেশনার পর অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত এনসিপির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইসির যুগ্ম সচিব ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আগামী ২ মে অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর, গত ২২ এপ্রিল বিকেলে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করায় প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে, গত সোমবার উচ্চ আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইসি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শূন্য আসনের বিপরীতে সমসংখ্যক প্রার্থী থাকায় মোট ৪৯ জন প্রার্থীকে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচিত নারী নেত্রীরাও স্থান পেয়েছেন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ফলাফল অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত আকারে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, আদালতের নির্দেশে একটি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া এবং অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচিত হয়ে যাওয়া—এই দুই দিক মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এবারের নির্বাচন একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছে।
