এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ম্যাচের ফল নয়, বরং ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ। মাঠের লড়াইয়ে ভারত জয় পেলেও খেলার শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের সৌজন্যমূলক করমর্দন না হওয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!খেলা শেষে পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়রা মাঠে দাঁড়িয়ে ভারতের ক্রিকেটারদের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও শিভম দুবে সরাসরি মাঠ ছেড়ে যান। দলের অন্য সদস্যরাও সাজঘরে ফিরে যান এবং পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দনে অংশ নেননি। দৃশ্যটি সরাসরি সম্প্রচারে ধরা পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ঘটনার ব্যাখ্যায় জানান, এটি কাকতালীয় নয় বরং পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত। কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানাতেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। সূর্যকুমার বলেন- আমাদের সেনাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে এবং তাঁদের পরিবারকে জানাতে যে আমরা পাশে আছি, সেই কারণেই করমর্দন থেকে বিরত ছিলাম। এই জয় তাঁদেরই জন্য।
অন্যদিকে, পাকিস্তান শিবির বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা প্রতিবাদস্বরূপ ম্যাচ-পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতীয় উপস্থাপকের সঙ্গেও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান সালমান। তিনি নাকি জানিয়েছেন, উপস্থাপক যদি পাকিস্তানি হতেন তবে হয়তো তিনি সেখানে যোগ দিতেন।
পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন ভারতীয় দলের এই আচরণকে “অ-খেলোয়াড়সুলভ” আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে খেলার সৌজন্য বজায় রাখা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঐতিহ্যের অংশ। পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগও জানিয়েছে।
ক্রিকেটবিশ্বে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ বরাবরই আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রঙে রঞ্জিত। তবে ম্যাচ শেষে হাত না মেলানো ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার প্রচেষ্টা যতবারই করা হয়েছে, বাস্তবে দুই দেশের বৈরিতা তা আড়াল করতে পারেনি।
এশিয়া কাপের এই ম্যাচে ভারতের জয় ছাপিয়ে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের আচরণ। ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, খেলার ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, খেলা শেষে সৌজন্যবোধ রক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে, ভারতীয় সমর্থকদের একাংশ সূর্যকুমারের সিদ্ধান্তকে সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঠিক পদক্ষেপ বলেও সমর্থন করেছেন।
সব মিলিয়ে, মাঠে রোমাঞ্চকর ক্রিকেট উপহার দেওয়ার পরও ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ আবারও রাজনীতি ও আবেগের ছায়ায় ঢাকা পড়ল। এখন দেখার বিষয়, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল কিংবা ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনে ঘটনাটি কীভাবে প্রতিফলিত হয় এবং ভবিষ্যতে দুই দলের সম্পর্কের ওপর এর কী প্রভাব পড়ে।
দৈনিক টার্গেট 





















